AmritaBachan/ অমৃতবচন

AmritaBachan/ অমৃতবচন

উদবোধন

“আমি যেন দিব্যদৃষ্টিতে দেখিতেছি, আমাদের সেই প্রাচীনা জননী আবার জাগিয়া উঠিয়া পুনর্বার নবযৌবনশালিনী ও পূর্বাপেক্ষা বহুগুণে মহিমান্বিত হইয়া তাঁহার রত্নসিংহাসনে বসিয়াছেন”- স্বামী বিবেকানন্দ

আমাদের মাতৃভূমি অখণ্ড ভারতবর্ষ

“ভারত, শুধু ভূখণ্ডের নদনদী , মৃত্তিকা ও পাহাড় পর্বতের সমষ্টি বিশেষ নয়, অথবা এই দেশের অধিবাসীদের জন্যে তাঁদের আবাসভূমির কোন একটি নামও নয়। ভারত এক জীবন্ত সত্তা, এত জীবন্ত যে বলা যায় যেন মহাদেব শিব। ভারত হল ভগবতী জননী । যদি তিনি ইচ্ছা করেন তাহলে মানুষী মূর্তিতেও নিজেকে প্রকাশ করতে পারেন”- শ্রীমা কথা

ভারতের জ্ঞান বিজ্ঞানের উজ্জল পরম্পরা –

“ভারত উপাসনা পন্থাসমূহের ভূমি, মানবজাতির শৈশবভূমি, ভাষার জন্মভূমি, ইতিহাসের জননী, পুরাণসমূহের মাতামহী এবং পরম্পরার প্রমাতামহী। মনুষ্য-ইতিহাসে মূল্যবান তথা সৃজনশীল যত সামগ্রী আছে, তার সম্পূর্ণ ভাণ্ডার একা ভারতের নিকট আছে। এ এমন এক ভূমি যার দর্শন লাভের জন্য সকলেই লালায়িত থাকে এবং তার একটু ক্ষীণ আভাসমাত্রের দর্শন পেলে বিশ্বের অন্য সমস্ত দৃশ্যের পরিবর্তে তাকে পরিত্যাগ করতে কেও রাজি হবে না।” – মার্ক টোয়েন

পরম পূজনীয় ডাক্তারজী

যে সমস্ত গুণের দ্বারা একজন যুগপুরুষের সৃষ্টি হয় তার মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট যুগনির্মাতা হওয়া সত্ত্বেও আমাদের ডাক্তারজী আজীবন একজন বালকের সমান থেকেছেন। সরল বিনম্র নিরভিমা, সকলের সাথে পরমাত্মীয়ের ন্যায় কথা বলতেন। হাস্যময়, রসিক এবং অন্যের ছোট থেকে ছোট গুণের মর্যাদা দিতেন। – পরম পূজনীয় শ্রীগুরুজী

নিত্যশাখা

পরম পূজনীয় বালাসাহেব দেওরস বলেছেন-

সঙ্ঘ শাখা কেবল খেলাধুলা বা কুচকাওয়াজ করার স্থান নয়, পরন্তু আড়ম্বরহীন ভাবেই সজ্জনদের সুরক্ষার অভিব্য, তরুণ যুবকদের কু-অভ্যাস আদি হতে মুক্ত রাখার সংস্কারপীঠ। সমাজের উপর আগত আকস্মিক বিপত্তি বা সঙ্কটে দ্রুত ও পক্ষপাতহীন সহায়তাদানের আশাকেন্দ্র। মহিলাদের নির্ভয়তা এবং সুসভ্য আচরণ প্রাপ্তির আশ্বাস স্থল। দুষ্ট এবং দেশদ্রোহী শক্তির উপর নিজের প্রভাব স্থাপনকারী শক্তি। আর সবচেয়ে বড় কথা হল সমাজ জীবনের বিভিন্নক্ষেত্রে সুযোগ্য কর্মী যাতে পাওয়া যায় তার প্রশিক্ষণদানকারী বিদ্যাপীঠ হল সঙ্ঘ শাখা

দীনদয়াল উপাধ্যায় বলেছেন-

মানুষ সাধারণভাবে প্রকৃতির অনুগমন করে, যেমন পশুরা করে । যারা প্রকৃতির ঊর্ধ্বে অতিক্রম করেন তাঁরাই সংস্কৃতি রচনা করেন ।সংস্কার গ্রহণ করে প্রকৃতিকে অতিক্রম করতে হয়। প্রত্যহ সংস্কারের জন্যে সঙ্ঘ শাখায় আমরা আসি। যেমন শিবের অভিষেক করা হয়। একটি পাত্র ফুটো করে বিল্বপত্র দিয়ে জল ভরে দেয়া হয় । একটি একটু করে বিন্দু বিন্দু জল পরতে থাকে। একঘটি জল একেবারে ঢেলে দেয়া হয়না। ঠিক তেমনিই প্রতিদিন আমরা শাখায় সংস্কার লাভ করি। সংস্কার মানে ধীরে ধীরে নতুন নতুন গুণ অর্জন করা। আমাদের মধ্যে যে

গৈরিক ধ্বজ

“আমাদের মহান সংস্কৃতির পরিপূর্ণ পরিচয়প্রদানকারী প্রতীকস্বরূপ এই ভগবাধ্বজ যা আমাদের কাছে পরমেশ্বর স্বরূপ। এজন্য এই পরম বন্দনীয় ধ্বজকে আমরা গুরুর স্থানে রাখা উচিৎ মনে করেছি। তার সুবর্ণ গৈরিক শরীর পবিত্র যজ্ঞবেদীর শিখার মত-যা শারীরিক ভোগ লালসাকে ভস্মীভূত করতে সমর্থ, সন্ন্যাসীর ত্যাগ বৃত্তির নির্দেশক, ত্যাগময় জনসেবার সংকেত চিহ্ন ।” -পরম পূজনীয় শ্রীগুরুজী

প্রার্থনা

“কোন কাজ করার পূর্বে আমাদের ভালভাবে জেনে নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন যে ঐ কাজের কারণ কি এবং তা সম্পন্ন করার জন্য আমাদের কি রকম পূর্বপ্রস্তুতির প্রয়োজন। সৌভাগ্যবশত আমাদের প্রার্থনাতে সংক্ষেপে তা প্রকাশিত আছে। এইগুলি আমাদের অর্জন করতে হবে। “- শ্রীগুরুজী সমগ্র খণ্ড ৪, পৃঃ ২৩৮

“সঙ্ঘের প্রতিজ্ঞা ও রোজকার প্রার্থনাতে এমন সংস্কার আছে যার দ্বারা ব্যক্তির জীবনে আমূল পরিবর্তন হতে পারে ।জীবনে দৃঢ়তার ভাব এবং কাজের উপযুক্ত জীবন গঠনের দৃষ্টিতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় গুণগুলি নিজের মধ্যে আনা যায়। “- শ্রীগুরুজী সমগ্র খণ্ড ৪, পৃঃ ১৯৪

“সঙ্ঘের প্রার্থনা আজ আমাদের নিকট মন্ত্র হয়ে গেছে । এই মন্ত্র উচ্চারণের সময় আমাদের হৃদয়ের সমস্ত পবিত্র ভাব প্রস্ফুটিত হয়।পবিত্র অন্তঃকরণে উৎপন্ন এই ভাব অবশ্যই প্রভাব বিস্তার করে। এই প্রার্থনার মধ্যে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সমগ্র বিচারধারা এবং সমস্ত কার্যপদ্ধতি বর্তমান। এ জন্যে একে সঙ্ঘের মন্ত্র বললেও ভুল হবে না।” – মাননীয় বাবাসাহেব আপ্তে

“এই সুপ্ত রাষ্ট্রের পুনর্জাগরণের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের সৃষ্টি হয়েছে। এই সঙ্ঘের প্রার্থনা আমাদের মন্ত্র। যে কথা মনন করলে আমাদের রক্ষার পথ দৃষ্টিগোচর হয় , সেটাই আমাদের মন্ত্র। এই প্রার্থনায় সঙ্ঘের সিদ্ধান্ত, কার্যপদ্ধতি এবং ভূমিকা সব কিছুই আছে। এই প্রার্থনা আমাদের কাছে একটি সমগ্র গ্রন্থ। “- মাননীয় বাবাসাহেব আপ্তে

স্বয়ংসেবকের গুণ ও ব্যাবহার

পরম পূজনীয় শ্রীগুরুজী বলেছেন-

সঙ্ঘের প্রত্যেক স্বয়ংসেবককে আকর্ষনের কেন্দ্র হইতে হইবে। কিছু লোককে সব সময় নিজের কাছে আকৃষ্ট করিয়া রাখার ক্ষমতা তাহার থাকা চাই। কোন না কোন গুণ তাহার পূর্ণ মাত্রায় থাকা চাই। যাহার কথায় মিষ্টতা আছে । পরিস্থিতি বুঝিবার মতন ক্ষমতা আছে এবং কাহার দ্বারা কি কাজ হইতে পারে বুঝিয়া সেই অনুযায়ী উপযুক্ত লোককে উপযুক্ত কাজে নিযুক্ত করিবার ক্ষমতা আছে। সেই সংগঠন করিতে পারে।

সমারোপ সমারোহ

পরম পূজনীয় বালাসাহেবজী বলেছেন-

সঙ্ঘের শাখা কেবল খেলাধূলা বা কুচকাওয়াজ করার স্থান নয়, পরন্তু আড়ম্বরহীন ভাবেই সজ্জনদের সুরক্ষার অভিব্যক্তি, তরুণ যুবকদের কু-অভ্যাস আদি হতে মুক্ত রাখার সংস্কারপীঠ। সমাজের উপর আগত আকস্মিক বিপত্তি বা সঙ্কটে দ্রুত ও পক্ষপাতহীন সহায়তাদানের আশাকেন্দ্র। মহিলাদের নির্ভয়তা এবং সুসভ্য আচরণ প্রাপ্তির আশ্বাস স্থল। দুষ্ট এবং দেশদ্রোহী শক্তির উপর নিজের প্রভাব স্থাপনকারী শক্তি। আর সবচেয়ে বড় কথা হল সমাজ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে , সুযোগ্য কর্মী যাতে পাওয়া যায় তার প্রশিক্ষণদানকারী বিদ্যাপীঠ হোল সঙ্ঘের শাখা।

দীক্ষান্ত-

স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন-

এক মহান লক্ষ্য গ্রহণ কর। এই লক্ষ্যকেই নিজের জীবনব্রত মনে কর। প্রতিমুহুর্তে এরই চিন্তন কর। এরই স্বপ্ন দেখ। এর জন্যেই জীবন অর্পণ কর। মস্তিষ্ক, মাংসপেশীসমূহ স্নায়ু আদি শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গ এই লক্ষ্যে ওতপ্রোত হোক এবং গন্তব্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত অন্য সব চিন্তা দূরে থাকুক। এটাই হল সফলতার রাজপথ”।

রাখি বন্ধন উৎসব

স্বামী প্রণবানন্দ বলেছেন-

“হে হিন্দু ভেদ বিভেদ ভোলো, সন্মিলিত ও সংগঠিত হও, ধর্ম এবং সমাজের রক্ষার জন্য শপথ গ্রহণ কর। নিজের অতীত ইতিহাসের দিকে তাকাও, তোমার ধার্মিক, বীর দিগ্বিজয়ী কীর্তি কাহিনী স্মরণ কর। তাঁদের পদচিহ্ন অনুসরণ কর। হিন্দু ধর্ম ,হিন্দু সমাজ ,হিন্দু সভ্যতা-সংস্কৃতি রক্ষা এবং বিস্তারের মহান সংকল্প দ্বারা প্রেরিত ও উৎসাহিত হয়ে সম্পূর্ণ হিন্দু সমাজের শক্তিসমূহ কেন্দ্রীত ও ব্যুহবদ্ধ করে আসুরিক শক্তির সঙ্গে সংগ্রামে অবতীর্ণ হও”-

অখণ্ড ভারত

ঋষি অরবিন্দ বলেছেন-

“ভারত আজ স্বাধীনতা লাভ করল বটে কিন্তু একত্ব লাভ করেনি । যে উপায়েই হোক, আর যে দিক দিয়েই হোক এই ভারত বিভাগ রদ করতেই হবে, ঐক্য লাভের একান্তই প্রয়োজন এবং তা হবেই, কারণ ভারতের মহৎ ভবিষ্যতের জন্যে তা অপরিহার্য ।